Connect with us

ধর্ম শিক্ষা

হে আল্লাহ! মহামারি করোনায় বদরের সাহায্য দান করুন

Published

on

আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসের ১৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদর। মক্কার কাফের মুশরিকদের অস্ত্র সজ্জিত বিশাল বাহিনীর সামনে নিরস্ত্রপ্রায় ৩১৩ জন সাহাবি নিয়ে সমর যুদ্ধের মুখোমুখি হন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ তাআলা এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে আসমানি সাহায্য দিয়ে বিজয় দান করেছিলেন। হে আল্লাহ! মহামারি করোনা থেকে মুক্তি লাভে তোমার কাছে সে সাহায্যই চায় মুমিন মুসলমান।

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর জন্য বিপদে এক মহা অনুপ্রেরণার নাম। প্রায় নিরস্ত্র মুসলিম জাতিকে মহান আল্লাহ আসমানি সাহায্য দ্বারা বিজয় দান করেছিলেন। পবিত্র নগরী মদিনা মুনাওয়ারা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত এ বদর প্রান্তর। মুসলিম অবস্থা ও অবস্থান দুটিই ছিল তাদের প্রতিকূলে। তা সত্বেও মহান প্রভু যুদ্ধের প্রস্তুতি মুসলিমদের অনুকূলে করে দেন।

বদরের প্রতিকুল পরিস্থিতিতে প্রায় নিরস্ত্র অল্প সংখ্যক সাহাবি নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়ে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে এক আবেগঘন প্রার্থনা করেন। যে প্রার্থনা ছিল আল্লাহর জমিনে ইসলামকে বিজয়ের প্রার্থনা। প্রিয় নবি বলেন-
‘হে দয়াময় আল্লাহ! আগামীকালের নীতিনির্ধারণী যুদ্ধে তোমার সাহায্য আমাদের অতি প্রয়োজন। এ যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। এ যুদ্ধে আমরা যদি পরাজিত হই তাহলে- তোমাকে সেজদা করার কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকার লোক এ পৃথিবীতে আর নাও থাকতে পারে। হে মালিক! তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো, তুমি কী করবে? কারণ, তুমিই একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মালিক। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের জীবন তোমার পথে উৎসর্গ করলাম। বিনিময়ে তোমার দ্বীনকে আমরা তোমার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তুমি আমাদেরকে বিজয় দান করো। আমরা তোমার কাছে সাহায্য চাই।’ (যুরকানি, সিরাতে ইবনে হিশাম)

বদরের প্রান্তরে আল্লাহর কাছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আবেগঘন দোয়া এখনও মুসলিম উম্মাহর জন্য তার সাহায্য লাভের অনুপ্রেরণা। মহান আল্লাহর কাছে সে আগেব-অনুভূতি অস্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করলে তিনি মহামারি করোনা থেকে গোটা জাতিকে মুক্ত করতে পারে । রমজানে মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করে রহমতের চাদরে ঢেকে নিতে পারেন। তিনিই যে সৃষ্টি জগতের একচ্ছত্র অধিপতি ও মানুষের দয়াময় রব।

ফিরে দেখা
মক্কার কুরাইশদের রক্ত টগবগে ৯৫০ জন যুবকের এক বড় সেনাদল সদ্য হিজরতকারী নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর আনীত দ্বীনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়ার মানসে ১০০ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ঘোড়া এবং ৭০০ উটের বিশাল বহর নিয়ে ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরের উন্নত স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে। যাদের নেতৃত্বে ছিল কুরাইশদের বড় বড় নেতারা।

অপর দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি নিয়ে প্রায় অস্ত্রহীন অবস্থায় বদর প্রান্তরে উপস্থিত হন। কুরাইশদের খোঁজ খবর জানার পর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে পরমর্শ গ্রহণ করেন। এ পরামর্শও ছিল মহান আল্লাহর এক অনুগ্রহ। যার ফলে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে। সে বিজয় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুরা আল-ইমরানে উল্লেখ করেন- ‘হে মুমিনরা, আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন অথচ সেদিন তোমরা ছিলে অসহায়।’

বদরের অভিযানে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ অন্য সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন নিজেদের জীবন ও সম্পদ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অর্পন করেন। হজরত উমায়ের ইবনে ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কম বয়সি হওয়ায় তাকে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাঁকে বদরে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়।

মদিনার আনসারদের মধ্যে খাজরাজ গোত্রের নেতা হজরত সাদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে এ ঘোষণা দেন- হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল্লাহ কসম! আপনি নির্দেশ দিলে আমরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’

সাহাদের এ দৃঢ় মনোবলে আল্লাহ তাআলা ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধে মুসলানদের বিজয় দান করেন। অবিশ্বাসী কুরাইশ কুফফারা পরাজয় বরণ করে পালিয়ে যায়। অনেকে মুসলমানদের হাতে বন্দি হয়। এ বন্দিদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। তিনি পরবর্তীতে ইসলাম কবুল করেন।

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের বছরই যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পরই মুসলমানরা প্রথম বার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন এবং ঈদের নামাজ আদায় করেন। আর এ বছরই মুসলিমদের জন্য রমজানের রোজা, সাদকায়ে ফিতর এবং জাকাত আদায় করা ফরজ হয়।

বদরের ঐতিহাসিক এ ঘটনা মুসলিমদের জন্য অন্যতম শিক্ষা। নিরবে নিভৃতে অত্যাচার জুলুম সহ্য করে নয় বরং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেদের জীবন বিসর্জনই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য। বদর প্রান্তরে মুসলিম বাহিনী প্রিয় নবির আবেগঘন কান্না প্রার্থনা দেখেছে। ইসলামের অনুসারিরা সে ইতিহাস থেকে শিখেছে কীভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে বিজয় লাভ করতে হয়।

সুতরাং মহামারি করোনাসহ রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানে পদ্ধতিতে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে নিজেদের গোনাহ থেকে মুক্তি লাভে প্রার্থনা করা জরুরি। মহান আল্লাহই পারে করোনা থেকে পুরো জাতিকে মুক্তি। যেমনি বিজয় দান করেছিলেন ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে।

মুমিন মুসলমানের উচিত
মহামারি করোনায় বদরি সাহায্য লাভে কুরআন-সুন্নাহর দোয়াগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। ক্ষমা লাভে সেজদায় পড়ে কুরআনি দোয়াগুলো পড়ে রোনাজারি করা। আর তাহলো-

– اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ .
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আমার দৃষ্টিতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আপনি ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই কবরের আজাব থেকে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

– لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ.
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ-জ্বালিমিন।’

অর্থ : আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয় আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিসসামায়ি, ওয়া হুয়াসসাম উল আলিম।’
সকাল হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির উপর আকস্মিক কোনো বিপদ আসবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এ দোয়া পড়বে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো বিপদ আসবে না।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’

– أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.
উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি মা খালাকা।’
অর্থ : আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের সাহায্যে তাঁর সকল সৃষ্টির অকল্যাণ-অনিষ্ট থেকে পানাহ গ্রহণ করছি।’ (মুসলিম)

– حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
উচ্চারণ : ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’
অর্থ : ‘আামার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তাঁর উপরই আমি ভরসা করছি। তিনি মহান আরশের রব।’ (আবু দাউদ)

– يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ إِلى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ.
উচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছু, আসলিহ লি সাঅনি কুল্লুহু, ওয়া লা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইনিন।’
অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব, হে সৃষ্টিকুলের নিয়ন্ত্রক, আপনার রহমতের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, আপনি আমার সকল বিষয় শুদ্ধ করে দিন, এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার উপর ছেড়ে দিয়েন না।’ (নাসাঈ,মুসতাদরাকে হাকেম)

বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যা ও আজান-ইকামতের মাঝে এ দোয়াগুলো পড়া-
– اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া, ওয়াল আফিয়াতা ফিদ-দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্ত প্রার্থনা করছি।’

– اللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِينِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনইয়ায়ি ওয়া আহলি ওয়া মালি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাচ্ছি, আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদে।’

– اللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ، وَاحْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِينِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি, ওয়া আমিন রাওআতি, ওয়াহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়্যা, ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মান ফাওক্বি, ওয়া আউজুবিকা আন উগতালা মিন তাহতি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন। আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। আমাকে হেফাযত করুন সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান থেকে, বাম থেকে, উপর থেকে; এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিচ হতে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে।’ (ইবনে মাজাহ)

– لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَأَ مِنَ اللهِ إلاَّ إِلَيْهِ.
উচ্চারণ : ‘লা হাউলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহি লা মালঝাআ ওয়া লা মানঝাআ মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।’
অর্থ : ‘আল্লাহর তাওফিক ছাড়া পাপ পরিহার করা এবং নেক কাজ করার শক্তি নেই। তাঁর আশ্রয় ব্যতিত তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।’ (মুসনাদে বাযযার)

– اللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ، فَلَا تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা রাহমাতিকা আরঝু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইনিন, ওয়া আসলিহ লি শাঅনি কুল্লুহু, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার রহমতেরই প্রত্যাশী আমি। তাই আপনি আমাকে আমার উপর ন্যস্ত করবেন না। আপনি আমার সকল বিষয় পরিশুদ্ধ করে দিন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

ক্ষমা লাভে সেজদায় পড়ার দোয়া
– رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)

– رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’
অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)

– رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’
অর্থ : ‘(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)

– رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’
অর্থ : হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)

– رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

– رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’
অর্থ : হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)

– سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ
উচ্চারণ : ‘সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।’
অর্থ : ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-বাকারাহ : আয়াত ২৮৫)

– رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا
উচ্চারণ : ‘ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’
অর্থ : ‘হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ২৮৬)

– رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)

– رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)

– رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)
হে আল্লাহ! মহামারি করোনায় আপনি পুরো জাতিকে বদরের সে বিজয় দান করুন। আপনার আসমানি সাহয্যের মুখোমুখি পুরো বিশ্ব। আপনি মুসলিম উম্মাহর দোয়া কবুল করুন। রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস সামিউল আলিম, ওয়াতুবু আলাইনা ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুর রাহিম। আমিন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশেষ-সংবাদ

কপিরাইট © ২০১৮ -২০২১ স্কুল নিউজ। প্রধান সম্পাদক ডঃ মোমেনা খাতুন। ১৮/৬ মোহাম্মদিয়া হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগঃ info@schoolnews.com.bd