March 1, 2021, 7:00 am

সন্তানকে স্মার্টফোন দেওয়ার আগে সতর্ক হোন

আধুনিক এই যুগে প্রায় সকলের কাছেই স্মার্টফোন রয়েছে। স্মার্টফোন হাতে নেই এমন মানুষ এখন খুঁজেই পাওয়া যাবে না। স্মার্টফোন আর তাতে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস। এতেই পুরো দুনিয়া এখন আপনার হাতে। তবে এর ভালো এবং খারাপ দু-দিকই রয়েছে। মহামারি করোনায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, ভার্চুয়ালি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সম্ভব হয়েছে এই স্মার্টফোনের জন্য। আজকাল পরিবারে থাকা ছোট ছোট বাচ্চা বা সন্তানরাও স্মার্টফোন হাতে না নিয়ে খেতে বসেন না। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় হয়তো ছোট শিশু বা টিনেজারদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাচ্চাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেওয়াই যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে তা যেন ব্যক্তিগত না হয়। আবার অনেকে মনে করছেন, অল্প বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করলে নিজেদের অনেক স্বাধীন মনে করেন তারা। ফলে খারাপ কিছু শেখার সম্ভাবনা থাকে। সন্তানকে স্মার্টফোন দেওয়ার আগে নিচের এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে অভিভাবকদের।
সন্তানকে শেখাতে হবে ফোন সংক্রান্ত কোনো পাসওয়ার্ড কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। তাদের এটা ভালো করে বুঝাতে হবে যে, ফোনে নিজের ও পরিবারের তথ্য থাকে। তাই কারো সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার না করলে ফোন ও তথ্য দুটোই সুরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে মা-বাবা’র বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং জানতে হবে সন্তান কী শেয়ার করছে।
স্মার্টফোন মানেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অ্যাকাউন্ট। তাই সন্তান তাদের প্রোফাইলে কী পোস্ট করছে, ফ্রেন্ডলিস্টে কোন ধরনের মানুষদের রাখছে, কী কী শেয়ার করছে এবং পার্সোনাল ইনফোতে কী রাখছে সেই দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তারা যেন নিজের স্কুল, স্কুলের ঠিকানা, বাসা-বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর এ জাতীয় ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার না করে। এতে করে কেউ চাইলেও আপনাকে ট্র্যাক করতে পারবে না এবং আপনার তথ্য নিয়ে অসাধু কাজে ব্যবহারের মতো কোনো আশঙ্কাও থাকবে না।
অনেক অভিভাবকরা বলে থাকেন, ছেলে-মেয়েরা সারাদিনই ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। কেউ কেউ তো ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তাদের ফোন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে সময় নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে ফোন ব্যবহার করবে এবং নির্দিষ্ট কিছু সময় ব্যবহার করবে না। খাবার সময়, পড়ার সময়, স্কুলে যাওয়ার সময় ফোন ব্যবহারে বিরত রাখতে হবে সন্তানকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ট্রোলিং বিষয়টি থাকে। এতে করে অনেক সময়ই ক্ষতি হয়। এমনকি এ নিয়ে থানা পর্যন্তও দৌড়াতেও হয়। তাই সন্তানকে ট্রোলিংয়ের খারাপ দিকগুলো ভালো করে বুঝাতে হবে। সন্তানও এ জন্য ট্রোলিং থেকে দূরে থাকবে। এছাড়াও অনলাইনে কিছু শেয়ার করার ক্ষেত্রে সন্তানকে সতর্ক থাকতে বলুন। প্রয়োজনে আপনিও নজর রাখুন তার প্রতি। অপরিচিত কারো সঙ্গে মেলামেশা যেন না করে। তবে নিজের পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডা দিলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

Please Share This Post in Your Social Media





School News 2020© All rights reserved.

<