Connect with us

জাতীয়

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চাই বৈশ্বিক মনোভঙ্গি

Published

on

গত কয়েক সপ্তাহে আমি কোভিড-১৯ বিষয়ে ডজনখানেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝতে পেরেছি তা হলো, এই ভাইরাস বেশ কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্য করে। প্রথমত, এটি তরুণদের চেয়ে বুড়োদের বেশি মারছে। দ্বিতীয়ত, নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি মারা যাচ্ছেন। তৃতীয়ত, গরিবেরা সামঞ্জস্যহীনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু একটি ব্যাপার নিশ্চিত, তা হলো কোভিড-১৯ জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করে না। এই ভাইরাস সীমান্ত চেনে না।

কথাটা বললাম এ কারণে যে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সারা বিশ্ব এই ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সবাই নিজের মতো করে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু আক্রান্ত হয়েছে কমবেশি সবাই। আর বিশ্বনেতাদের এটাও বুঝতে হবে যে এ ধরনের ছোঁয়াচে ভাইরাসের উপস্থিতি কোথাও থাকলে সবার কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়বে।

আবার কোভিড-১৯ এখন পর্যন্ত অনেক নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোকে আঘাত করেনি। ঠিক কী কারণে এটি হয়নি, আমরা জানি না। কিন্তু আমরা জানি, এই রোগ শেষমেশ সেসব দেশেও ছড়াবে। আর আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে অনেক বেশি হবে।

একবার এই পরিস্থিতির কথা ভাবুন; নিউইয়র্ক শহর কোভিড-১৯-এ বিপর্যস্ত হয়েছে। কিন্তু সেখানকার একটি হাসপাতালে যে পরিমাণ আইসিইউ শয্যা আছে, আফ্রিকার অধিকাংশ দেশেই তা নেই। তাই আফ্রিকার ওই সব দেশে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়লে লাখো মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত হবেন, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার জন্য আপনাকে যে উন্নয়নশীল দেশে জন্মাতে হবে, তা নয়। এমনকি ধনী দেশগুলো যদি আগামী কয়েক মাসে রোগের সংক্রমণ কমিয়ে আনতে পারে, তাহলেও এই রোগ ফিরে আসতে পারে, যদি অন্য কোথাও তা তীব্র আকারে থাকে। এক জায়গায় এই রোগ থাকলে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার।

সে জন্য এই রোগের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে শুধু জাতীয় পরিসরে কাজ করলে চলবে না, দরকার বৈশ্বিক মনোভঙ্গি। তবে তার রূপ এই মহামারির বিস্তারের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা তিনটি পদক্ষেপ নিতে পারেন, বিশেষ করে জি-২০-এর নেতারা।

প্রথমত, কোভিড–১৯-এর মোকাবিলায় সব সম্পদ (মাস্ক, গ্লাভস ও পরীক্ষার কিট) যেন যথাযথভাবে বণ্টন করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, এসব উপকরণ সবার জন্য পর্যাপ্ত থাকবে। কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, এ মুহূর্তে সর্বত্র সেটা হচ্ছে না।

কিছু কিছু ব্যাপারে নেতারা একমত হতে শুরু করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলতে হয়, এ লড়াইয়ে প্রথম সারির সেনা, অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথমে পরীক্ষা করতে হবে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক উপাদান প্রাপ্তিতেও তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু এসব উপকরণ কারা পাচ্ছেন? যাঁরা সর্বোচ্চ দর দিচ্ছেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে পুঁজিবাদের বড় সমর্থক। কিন্তু মহামারির সময় অনেক বাজার ঠিকঠাক কাজ করে না; তার সবচেয়ে বড় নজির জীবন রক্ষাকারী উপাদানের বাজার। এখানে ব্যক্তি খাতের বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে। এ অবস্থায় ব্যাপারটা সর্বোচ্চ দরপত্র পেশের মধ্যে চলে গেলে এই রোগে মৃত্যুহার অনেক বেড়ে যাবে।

সে জন্য জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সম্পদ বণ্টন করতে হবে। ইবোলা ও এইচআইভিবিরোধী যুদ্ধের বর্ষীয়ান সেনারা এই যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করতে পারেন। আর উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নেতাদের উচিত হবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে একত্রে কাজ করে সেই পরিকল্পনার লিখিত রূপ তৈরি করা।

এরপর সব দেশকে এই নির্দেশনার সঙ্গে একমত পোষণ করতে হবে, যাতে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সবার ওপরেই ন্যস্ত থাকে। প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হলে এই ঐকমত্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটিই হবে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

দ্বিতীয়ত, সব দেশকে প্রতিষেধক আবিষ্কারে তহবিল জোগান দিতে হবে। এখন একসঙ্গে আটটি টিকার গবেষণা চলছে। ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত একটি টিকা বাজারে আসবে, এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। এ সময়সীমার সঙ্গে টাকার সম্পর্ক আছে। এর জন্য সপ্তাহে ২০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। এতে সব দেশের অংশগ্রহণ জরুরি।

তৃতীয়ত, এই যে সপ্তাহে ২০০ কোটি ডলারের কথা বললাম, এটি শুধু টিকা উদ্ভাবন, উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য নয়। সে বাবদ আরও অনেক টাকা লাগবে। জি–২০ নেতাদের এখনই তা ভাবা শুরু করে দেওয়া উচিত।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে নেওয়া, সংক্ষেপিত। অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।   সূত্রঃ প্রথম আলো

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশেষ-সংবাদ

কপিরাইট © ২০১৮ -২০২১ স্কুল নিউজ। প্রধান সম্পাদক ডঃ মোমেনা খাতুন। ১৮/৬ মোহাম্মদিয়া হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগঃ info@schoolnews.com.bd